দিন দিন দেশে বেড়েই চলেছে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। করোনাভাইরাস সংক্রমিত কোভিড-১৯ রোগে গতকাল বৃহস্পতিবার পাওয়া সর্বশেষ তথ্যে দেশে নতুন করে ১১২ জন আক্রান্ত হয়েছেন, মারা গেছেন একজন। এ নিয়ে দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৩০ জন। আর এ পর্যন্ত এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২১ জন। গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা ভাইরাসের রোগী শনাক্ত হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) তথ্যমতে ঢাকা শহর, ঢাকা জেলাসহ বেশ কিছু জেলায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে।

আপনি যা পারেন

একজন ব্যক্তি এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করতে পারেন। আমরা যদি বাইরে বের হওয়ার সময় মাস্ক পরি, বিদেশ থেকে আসা বা ভাইরাস আক্রান্ত হলে যদি সাবধানতা অবলম্বন করি, বারবার হাত ধুই, হ্যান্ডশেক না করি – তাহলে সবচেয়ে সহজে এই ভাইরাস ছড়ানো রোধ করা সম্ভব।

ঢাকার যেসব এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস

corona dhaka infected

প্রকাশিত : ১১:২৯ ১০ এপ্রিল ২০২০

 

আগারগাঁও (২) , আদাবর (১), মোহাম্মদপুর (৪), বসিলা (১), ধানমন্ডি (১৩), জিগাতলা (৩), সেন্ট্রাল রোড (১) , গ্রীন রোড (৩), শাহবাগ (২), হাতিরপুল (২), বুয়েট এলাকা (১), আজিমপুর (৪), হাজারীবাগ (৩), উর্দু রোড (১), চকবাজার (৩), লালবাগ (৮), বাবু বাজার (৩), ইসলামপুর (২), লক্ষীবাজার (২), নারিন্দা (১), দয়াগঞ্জ (১), সওয়ারিঘাট (৩), ওয়ারী (১০), ধোলাইখালী (১),  কোতোওয়ালী (১)।

এ ছাড়া ঢাকার বংশাল (৪), যাত্রাবাড়ী (৬), শনির আখড়া (১), মুগদা (১), পুরানা পল্টন (২), রাজারবাগ (১), ইস্কাটন (১), বেইলি রোড (৩), মগবাজার (২), শান্তিনগর (২), বাসাবো (১১), রামপুরা (১), হাতিরঝিল (১), শাহজাহানপুর (১ ), বাড্ডা (২), বসুন্ধরা (৩), নিকুঞ্জ (১), মানিকদি (১), আশকোনা (১), উত্তরা (১৬), বেরিবাধ (১), গুলশান (৬), বনানী (১), মহাখালী (২), বেগুনবাড়ি (১), তেজগাঁও (২), কাজীপাড়া (১), মিরপুর ১০ (৩), মিরপুর ১১ (৬), মিরপুর ১২ (২), মিরপুর ১৩ (১), মিরপুর ১ (১১), শাহ আলী বাগ (২) পিরেরবাগ (২), টোলারবাগ (৮) ও উত্তর টোলারবাগ (৬) এলাকাতে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী এই করোনাভাইরাস।

এছাড়া ঢাকা জেলাসহ বেশ কিছু জেলায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। আসুন দেখে নেই কোন কোন জেলায় ছড়াল করোনা-

ঢাকা বিভাগ

গাজীপুর (২), জামালপুর (৩), কিশোরগঞ্জ (১), মাদারীপুর (১১), মানিকগঞ্জ (৩), নারায়ণগঞ্জ (৫৯), নরসিংদী (৪), রাজবাড়ী (১), টাঙ্গাইল (২), শরীয়তপুর (১) ও শেরপুর (২)।

চট্টগ্রাম বিভাগ

চট্টগ্রাম (৯), কক্সবাজার (১) ও কুমিল্লা (৪)।

সিলেট বিভাগ

সিলেট (১) ও মৌলভীবাজার (১)।

রংপুর বিভাগ

রংপুর (২), গাইবান্ধা (৮) ও নিলফামারী (১)।

খুলনা বিভাগ

চুয়াডাঙ্গা (১)

ময়মনসিংহ বিভাগ

ময়মনসিংহ (৪)

dhaka

সংক্রমণ ঠেকাতে যে 7  বিষয় মনে রাখবেন

মানুষ থেকে মানুষের দেহে এই ভাইরাস কিভাবে ছড়ায় সে বিষয়ে এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারেননি বিশেষজ্ঞরা। তবে সাধারণ কিছু সাবধানতা অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।

এসব সতর্কতা অবলম্বন করলে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হবার সম্ভাবনা কিছুটা হলেও কমে আসবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। এ সতর্কতাগুলো কী? সেগুলো তুলে ধরা হলো।

. গণপরিবহন

গণপরিবহন এড়িয়ে চলা কিংবা সতর্কতার বিষয়টি বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

বাস, ট্রেন কিংবা অন্য যে কোন ধরণের পরিবহনের হাতল কিংবা আসনে করোনাভাইরাস থাকতে পারে।

সেজন্য যে কোন পরিবহনে চলাফেরার ক্ষেত্রে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করা এবং সেখান থেকে নেমে ভালোভাবে হাত পরিষ্কার করার উপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

২. কর্মক্ষেত্র

অফিসে একই ডেস্ক এবং কম্পিউটার ব্যবহার করলেও ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাঁচি-কাশি থেকে করোনাভাইরাস ছড়ায়। যে কোন জায়গায় করোনাভাইরাস কয়েক ঘন্টা

এমনকি কয়েকদিন পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে। অফিসের ডেস্কে বসার আগে কম্পিউটার, কিবোর্ড এবং মাউস পরিষ্কার করে নিন।

৩. জনসমাগমস্থল

যেসব জায়গায় মানুষ বেশি জড়ো হয় সেসব স্থান এড়িয়ে চলা কিংবা বাড়তি সতর্কতার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

এর মধ্যে খেলাধুলার স্থান, সিনেমা হল থেকে শুরু করে ধর্মীয় স্থানও রয়েছে।

বাংলাদেশের মতো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতে জুমার নামাজের সময় বাড়ি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

সৌদি আরব ইতোমধ্যেই ওমরাহ বন্ধ করেছে।

৪. ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান

বাংলাদেশে বিভিন্ন ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে যখন গ্রাহকরা যায় তখন অনেকেই একটি কলম ব্যবহার করেন।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কোন ব্যক্তি যদি সে কলম ব্যবহার করে তাহলে পরবর্তী ব্যবহারকারীদেরও করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে।

সেজন্য নিজের কলম আলাদা করে রাখতে পারেন। এতে সংক্রমণের ঝুঁকি কমবে।

এছাড়া টাকা উত্তোলনের জন্য যে এটিএম বুথ ব্যবহার করা হয়, সেখান থেকেও সংক্রমণ হতে পারে। কারণ এটিএম বুথের বাটন অনেকে ব্যবহার করে।

৫. লিফট

ভাইরাস সংক্রমণের ক্ষেত্রে আরেকটি জায়গা হতে পারে বাড়ি কিংবা অফিসের লিফট।

লিফট ব্যবহারের সময় নির্ধারিত ফ্লোরে যাবার জন্য লিফটের বাটন অনেকে ব্যবহার করছেন।

বিভিন্ন অফিস ভবনে প্রতিদিন শত-শত মানুষ লিফট ব্যবহার করছেন।

এদের মধ্যে কেউ যদি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী থাকেন এবং সে লিফটের বাটনে অন্যদের আঙ্গুল গেলেও সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকে।

 

৬. টাকা-পয়সা

ব্যাংক নোট বা টাকায় নানা ধরণের জীবাণুর উপস্থিতি শনাক্ত করার ঘটনা নতুন নয়।

এমনকি ব্যাংক নোটের মাধ্যমে সংক্রামক নানা রোগ ছড়িয়ে পড়ার কথাও বলেন বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশের একদল গবেষক গত বছরের অগাস্ট মাসে বলেছিলেন, তারা বাংলাদেশি কাগুজে নোট ও ধাতব মুদ্রায় এমন ধরণের ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পেয়েছেন, যা সাধারণত মল-মূত্রের মধ্যে থাকে।

গতমাসে ভাইরাসের উপস্থিতি নিয়ে টাকা বা ব্যাংক নোট জীবাণুমুক্ত করার একটি উদ্যোগ দেখা যায় চীনে।

দেশটিতে সম্প্রতি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর সেখানে ভাইরাসটির বিস্তার ঠেকাতে বাজার থেকে ব্যাংক নোট সরিয়ে নিয়ে তা আবার জীবাণুমুক্ত করে বাজারে ছাড়ে দেশটি।

৭. শুভেচ্ছা বিনিময়

করমর্দন এবং কোলাকুলির মাধ্যমেও করোনাভাইরাস ছড়াতে পারে।

আপনি যে ব্যক্তির সাথে কোলাকুলি এবং করমর্দন করছেন, তিনি যদি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন তাহলে সেটি অন্যের দেহে সংক্রমিত হতে পারে।

এজন্য করমর্দন এবং কোলাকুলির না করার জন্য পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন সবকিছুর মূল কথা হচ্ছে নিজেকে পরিচ্ছন্ন রাখা।

হাত না ধুয়ে নিজের মুখমণ্ডল স্পর্শ করবেন না। এটি হলে ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে।

সংক্রমণ ঠেকানোর জন্য নিয়মিত ভালোভাবে হাত পরিষ্কার করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Author

Write A Comment

three × three =

By continuing to use the site, you agree to the use of cookies. more information

The cookie settings on this website are set to "allow cookies" to give you the best browsing experience possible. If you continue to use this website without changing your cookie settings or you click "Accept" below then you are consenting to this.

Close