ইসলাম একটি মানবিক ধর্ম। সর্বশ্রেষ্ঠ জীবন বিধান। কোনো মানবিক গর্হিত কাজকে ইসলাম অনুমোদন দেয়নি। বিবাহিত কোন নারী বা পুরুষ স্বীয় স্বামী বা স্ত্রী ছাড়া অন্য কোন ব্যক্তির সঙ্গে কোনও ধরণের সম্পর্ক কিংবা বিবাহবহির্ভত‚ প্রেম, যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হওয়ার মত গর্হিত কর্মকে কীভাবে ইসলাম সমর্থন করতে পারে?

 

এ বিকৃত কর্মের অসারতা বিবেকও ধিক্কার দেয়। নিজ স্বামী বা স্ত্রী অন্য কারো সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক স্থাপন করবে, সুস্থ বিবেকবান কোনো মানুষ এটা মেনে নিতে পারে না। এ কর্মের কারণে সমাজ যেমন শৃঙ্খলতা হারায়, তেমনি পারিবারিক বন্ধনেও ধরে ফাটল। পর্যদুস্ত হয়ে পড়ে সামাজিক সকল রীতিনীতি।

 

এ কাজের বিষফল মানবাজাতি কয়েক যুগ ধরে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে লক্ষ্য করে আসছে। ইসলাম হলো নীতি ও আদর্শের ধর্ম।ইসলামে পরকীয়া ও অবৈধ সম্পর্ক থেকে নারী-পুরুষকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।

 

নারীদের কথার আওয়াজকেও সতরের অন্তর্ভুক্ত করে অপ্রয়োজনে পরপুরুষের সঙ্গে কথা বলতে নিষেধ করা হয়েছে। একান্ত প্রয়োজনে কথা বলতে হলেও সুরা আহজাবের ৩২ নং আয়াতে মহান আল্লাহ তায়ালা পরপুরুষের সঙ্গে কোমল ও আকর্ষণীয় ভঙ্গিতে কথা বলতে নিষেধ করেছেন।

 

যাতে নারীদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কোনো পুরুষ আকর্ষণবোধ না করেন।শুধু নারীদেরই নয়, বরং সুরা নুরের ৩০ নম্বর আয়াতে প্রথমে আল্লাহ তায়ালা পুরুষদেরকে দৃষ্টি সংযত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এরপর ৩১ নম্বর আয়াতে মহিলাদেরকে তাদের দৃষ্টি সংযত রাখার পাশাপাশি তাদের গোপন শোভা অনাবৃত করতে নিষেধ করা হয়েছে।

 

অপাত্রে সৌন্দর্য প্রদর্শনকে হারাম করে সবটুকু সৌন্দর্য স্বামীর জন্য নিবেদনে উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে। কারণ, স্বামী তার স্ত্রীর সৌন্দর্যে মোহিত হলে সংসারের শান্তিই বাড়বে।পক্ষান্তরে স্ত্রীর সৌন্দর্য দিয়ে অন্যকে মোহিত করার পথ অবারিত করলে তা কেবল বিপদই ডেকে আনবে।

 

পুরুষ-মহিলা সবাইকে চরিত্র সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে ইসলাম। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা ব্যভিচারের নিকটবর্তী হয়ো না। এটা অশ্লীল কাজ এবং নিকৃষ্ট আচরণ।’ (সুরা বনি ইসরাইল, ৩২) ব্যভিচারের শাস্তি হিসেবে আল্লাহ বলেন, ‘ব্যভিচারী ও ব্যভিচারিণী উভয়কে এক’শ ঘা করে বেত্রাঘাত কর।’ (সুরা নুর, ২)

 

হাদিস শরিফে ব্যভিচারের ভয়ানক শাস্তির কথা বর্ণিত হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘হে মুসলমানগণ! তোমরা ব্যভিচার পরিত্যাগ কর। কেননা এর ছয়টি শাস্তি রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি দুনিয়াতে ও তিনটি আখেরাতে প্রকাশ পাবে।

 

যে তিনটি শাস্তি দুনিয়াতে হয় তা হচ্ছে

তার চেহারার ঔজ্জ্বল্য বিনষ্ট হয়ে যাবে, তার আয়ুষ্কাল সংকীর্ণ হয়ে যাবে এবং তার দারিদ্রতা চিরস্থায়ী হবে।আর যে তিনটি শাস্তি আখেরাতে প্রকাশ পাবে তা হচ্ছে, সে আল্লাহর অসন্তোষ, কঠিন হিসাব ও জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করবে।’ (বায়হাকি, হা নং ৫৬৪)

 

হজরত সাহল ইবনে সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি মুখ ও লজ্জাস্থানের হেফাজতের জামিনদার হবে আমি তার বেহেশতের জামিনদার হবো।’ (বুখারিঃ ৭৬৫৮) কখনো দেখা যায় দেবরের সাথে জমে ওঠে পরকীয়া।

 

 

যে তিনটি শাস্তি আখেরাতে প্রকাশ পাবে তা হচ্ছে

 

সে আল্লাহর অসন্তোষ, কঠিন হিসাব ও জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করবে।’ (বায়হাকি, হা নং ৫৬৪)হজরত সাহল ইবনে সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি মুখ ও লজ্জাস্থানের হেফাজতের জামিনদার হবে আমি তার বেহেশতের জামিনদার হবো।’ (বুখারিঃ ৭৬৫৮) কখনো দেখা যায় দেবরের সাথে জমে ওঠে পরকীয়া।

 

ইসলাম দেবরের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করার লাগামকেও টেনে ধরেছে। হজরত উকবা ইবনে আমের (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘সাবধান! তোমরা নির্জনে নারীদের কাছেও যেও না।’এক আনসার সাহাবি বললেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! দেবর সম্পর্কে আপনার নির্দেশ কী? নবীজি (সা.) বললেন, ‘দেবর তো মৃত্যুর সমতুল্য।’ (মুসলিম, ২৪৪৫)হাদিসের ব্যাখ্যায় হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি রহ. ফতহুল বারিতে লিখেছেন, ‘এখানে মৃত্যুর সমতুল্যর অর্থ হলো হারাম।’ আর ইসলামে এসবের শাস্তি ভয়াবহ।এসবের শাস্তি হিসেবে রজম ও দোররার নির্দেশ এসেছে হাদিসে। যাতে কোনো নারী ও পুরুষ যেন এধরনের ভয়াবহ কর্মে লিপ্ত না হয়।

 

পরকীয়া প্রেমের বিস্ময়কর সত্য, যা চমকে দেবে!

 

১) বেশিরভাগ পুরুষই চিট করার সময়েও স্ত্রীকে ভালোইবাসেন। স্ত্রীকে ভালোবাসেন না বলে তাঁরা প্রতারণা করেন না। বরং নিজেদের সম্পর্কের বর্তমান থেকে হতাশ হয়ে যান বলে প্রতারণা করেন।

 

২) পুরুষ সাধারণত প্রতারণার জন্য তেমন নারীকেই বেছে নেন যাকে তাঁরা চেনেন এবং যারা তাঁর বেশ আশেপাশেই থাকে। এই জন্যই অফিসে বা বন্ধু/আত্মীয় মহলে পরকীয়ার ঘটনা বেশী ঘটে। তাই নারীরা একটু সচেতন হলেই আসলে ধরে ফেলতে পারবেন যে প্রিয় পুরুষটি কার জন্য আপনাকে ধোঁকা দিচ্ছেন!

 

৩) অনেক পুরুষই পরকীয়া করেন আসলে নিজের বিয়েকে বাঁচাতে। পুরুষ জীবনে সব চান। স্ত্রীও চাই তাঁর, আবার ফ্যান্টাসি জগতের সুন্দরীও। তাই কাউকেই ছাড়ার পক্ষপাতী নন তাঁরা, জানিয়েছেন লাইসেন্সড সম্পর্ক ও বিয়ে বিষয়ক থেরাপিসট Susan Mandel (PhD)।

 

৪) যারা প্রতারণা করেন, তাঁদের মাঝে যে কোন অপরাধবোধ থাকে না বিষয়টি মোটেও এমন নয়। বেশিরভাগ পুরুষই সঙ্গিনীর সাথে প্রতারণা করার পর মনে মনে অনুতপ্ত থাকে। তাঁরা এটা জেনেই করেন যে কাজটি খারাপ। তাই সর্বদা সঙ্গিনীর কাছ থেকে লুকিয়েও রাখতে চান।

 

৫) প্রতারণার সময়ে পুরুষেরা স্ত্রী সাথে ভালো সম্পর্ক রাখেন না, সেটাও ঠিক ধারণা হয়। প্রতারণার শুরুতে সকল পুরুষই স্ত্রীর দিকে একটু বাড়তি মনযোগ, বাড়তি ভালোবাসা দেখিয়ে থাকেন যেন স্ত্রী কিছু বুঝতে না পারেন। তাই হুট করে স্বামীর ভালোবাসা বেড়ে গেলে নারীরা সতর্ক হোন!

 

Author

Write A Comment

five × five =

By continuing to use the site, you agree to the use of cookies. more information

The cookie settings on this website are set to "allow cookies" to give you the best browsing experience possible. If you continue to use this website without changing your cookie settings or you click "Accept" below then you are consenting to this.

Close