আর কি কি জানতে চান জানিনা তবে একটা বিষয় অবশ্যই জেনে নেবেন ।

মানসিকতা।

 

আপনি যে ধরনের সে যদি একই ধরনের না হয় তবে বেশ ভুগবেন এবং আজকাল যেহেতু মানুষের সহন শক্তি তলানীতে সেক্ষেত্রে কোর্ট কাচারীতে চক্কর খাবেন – এ সম্ভাবনা আছে।

যদি পশ্চিমা ধারার হন তবে পশ্চিমা মনের কাউকে খুঁজে নিন।

ধার্মিক হলে ধার্মিক কাউকে খুঁজে নিন।

 

ব্যতিক্রম করেছেন তো ফলাফল নিজেই দেখবেন হাতেনাতে। এই জায়গায় মিলে গেলে কয়েক মাস অথবা কয়েক বছর অথবা আমৃত্যু ভালই থাকবেন আশা করা যায়।

 

তুমি কেন আমাকে ভালবাসো

valobasha

সব থেকে জরুরি প্রশ্ন এটি এবং এই প্রশ্নের একটা সঠিক উত্তর আপনার সঙ্গীর থেকে কাম্য। কেউ যদি এই প্রশ্নের উত্তরে বলে ‘তোমাকে ভালবাসি তাই ভালবাসি’, তাহলে সেটি খুব গ্রহণযোগ্য উত্তর হল না। আপনার সঙ্গীর উত্তর থেকে বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করুন, সে আপনার সবটুকু মিলিয়ে আপনাকে ভালবাসে কি না। শুধু আপনার ক্ষমতা নয়, আপনার অক্ষমতাগুলোকেও সে মেনে নিতে প্রস্তুত কি না, তা বুঝে নিন।

 

২. তুমি কেন বাকি জীবনটা আমার সঙ্গে কাটাতে চাও:

এই প্রশ্নের উত্তরে অনেকেই বলবেন, ‘আমি তোমাকে ভালবাসি বলে।’ কিন্তু এটাই কি সেই উত্তর যা আপনি শুনতে চাইছেন? সম্ভবত নয়। বরং দেখুন তার উত্তর থেকে তার জীবনে আপনার প্রয়োজনীয়তা, আপনার মূল্য সম্পর্কে কোন ধারণা তৈরি করতে পারেন কি না। আপনার সঙ্গীর মনেও এই বিষয়টি সম্পর্কে একটা স্বচ্ছ ধারণা গড়ে ওঠা খুব জরুরি।

 

৩. প্রেমকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য বিয়ের পর তুমি কী করবে:

প্রশ্নটা আপাতদৃষ্টিতে বোকা বোকা ঠেকতে পারে। কারণ পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজন বদলে যায়। কিন্তু এই প্রশ্নের সামনে দাঁড়িয়ে আপনার সঙ্গী যদি উত্তর দিতে ইতস্তত করেন, বা বলেন যে, ‘‘সেসব ভবিষ্যতে দেখা যাবে’’, তাহলে বুঝতে হবে, আপনাদের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে তিনি আদৌ ভাবেন না। সেটা খুব ভাল লক্ষণ নয়।

 

৪. তুমি কি আমার কষ্টগুলোর ভাগ নিতে প্রস্তুত:

জীবন সর্বদা সরলরেখা মেনে চলে না। জীবনে উত্থান-পতন আসবেই। সেক্ষেত্রে যে বিষয়টা বিয়ের আগে জেনে নেওয়া সবচেয়ে জরুরি তা হল, যাকে আপনি বিয়ে করতে যাচ্ছেন তিনি আপনার দুঃখ এবং কষ্টগুলোর অংশীদার হতে প্রস্তুত কিনা। আপনার জীবনের অন্ধকার সময়ে তিনি যদি আপনার কষ্টের ভাগ নিতে না পারেন, তাহলে তিনি আপনার উপযুক্ত নন।

৫. তুমি কি আমার জন্য জীবনে আপোস করতে প্রস্তুত:

বিয়ে মানেই কিন্তু একগুচ্ছ আপোস। আপনার সঙ্গী সেগুলো করতে প্রস্তুত কি না, তা বিয়ের আগেই জেনে নিন। বিয়ের পরে আপনার ভালবাসার সঙ্গে তার নিজের জীবনের কোন তুচ্ছ চাহিদার দ্বন্দ্ব দেখা দিলে তিনি কোনটিকে গুরুত্ব দেবেন, তা বিয়ের আগেই বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করুন।

 

৬. সন্তানদের জন্য তুমি কতটুকু ত্যাগ স্বীকার করতে পারবে:

বিবাহিত জীবনে সন্তান আর একটি আপোসের জায়গা। আপনার হবু জীবন সঙ্গীর মধ্যে সন্তানদের জন্য সেই আপোসটুকু করার মতো মানসিকতা রয়েছে তো? তিনি একজন অত্যন্ত দায়িত্বপূর্ণ অভিভাবক হতে প্রস্তুত তো? বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করুন বিয়ের আগেই।

 

 

একথা বলা বাহুল্য যে, এই সমস্ত প্রশ্নের ইতিবাচক উত্তর পাওয়ার পরেও কারো কারো বিবাহিত জীবনে নেমে আসতে পারে ব্যর্থতা এবং কেউ এই প্রশ্নগুলির উত্তর দেওয়ার ব্যাপারে কতোটা সত্‍ থাকবেন সেটাও আপনার পক্ষে বুঝে উঠা মুশকিল। তবুও এই প্রশ্নগুলির সুচিন্তিত এবং সত্‍ উত্তর যদি কেউ দেন, তাহলে বিবাহিত জীবন সম্পর্কে তার মানসিকতা অনেকটাই যাচাই করে নেওয়া সম্ভব।মনে রাখবেন, এই প্রশ্নমালা কিন্তু একতরফা নয়। এইসব প্রশ্নের সামনে দাঁড় করান নিজেকেও। দাম্পত্য জীবন সম্পর্কে আপনার ধারণাই বা কী, সেটাও বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করুন, বুঝতে দিন আপনার সঙ্গীকেও।

 

প্রসঙ্গ যখন টাকাপয়সা 

আয় করছেন দুজনেই, তবে অবিবাহিত জীবনের অর্থনৈতিক কাঠামোটা কিন্তু একেবারেই আলাদা। বিয়ের পর যখন সবকিছুই হয়ে উঠবে ‘যৌথ’, সেক্ষেত্রে টাকাপয়সার ভাগাভাগিটা কেমন হবে? দুজনের কি কোনো যৌথ ব্যাংক হিসাব থাকবে? এসব হিসাবনিকাশ বিয়ের আগে করে ফেললে পরে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হবে না।

পরিবার-পরিজন

বাঙালীর রীতি অনুযায়ী যৌথ পরিবারে থাকার চল এখন নেই বললেই চলে। বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় বিয়ের পর বাবা-মায়ের কাছ থেকে আলাদা হয়ে নিজেদের ছোট্ট সংসার পাতেন নতুন দম্পতি। তবে উভয় পক্ষের বাবা-মায়ের প্রতি দায়িত্ব কিন্তু থেকেই যায়।

শ্বশুরবাড়ির প্রতি দুজনের দৃষ্টিভঙ্গি কেমন তা নিশ্চিত করে নিন এখনই। পুত্রবধূ কিংবা মেয়ের জামাই হিসেবে কতটা দায়িত্ব আপনি পালন করতে আগ্রহী তা সঙ্গীকে পরিষ্কারভাবে জানিয়ে রাখুন। বিয়ের পরে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা কতখানি রাখতে চান তাও আলোচনা করুন।

মনে রাখবেন

দুজনের মতামতে ভিন্নতা থাকা মানেই সম্পর্কের ইতি নয়, বরং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে পারস্পরিক বোঝাপড়া ভাল থাকলে সম্পর্ক আরো মজবুত এবং গভীর হয়। বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে সঙ্গীকে আরো ভাল করে জানার চেষ্টা করুন, প্রয়োজনে সময় নিন।

Author

Write A Comment

twelve − four =

By continuing to use the site, you agree to the use of cookies. more information

The cookie settings on this website are set to "allow cookies" to give you the best browsing experience possible. If you continue to use this website without changing your cookie settings or you click "Accept" below then you are consenting to this.

Close